বিডিএস নিউজ ডেস্ক | ০৩ মে ২০২৬
তেহরান: বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা। রোববার (৩ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তেহরানের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলের কাছে ওয়াশিংটন এখন কার্যত কোণঠাসা।
আইআরজিসি’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য যে এক মাসের সময়সীমা বা ‘আল্টিমেটাম’ বেঁধে দিয়েছে, তা হোয়াইট হাউসকে চরম চাপে ফেলেছে। এই আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পথে থাকায় মার্কিন প্রশাসনের হাতে সময় খুবই কম।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয় যে, কেবল ইরান নয় বরং রাশিয়া, চীন এবং এমনকি ইউরোপীয় দেশগুলোও এখন ওয়াশিংটনের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
মিত্রদের দূরত্ব: ন্যাটো জোটের ভেতরে বিভক্তি এবং জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে মিত্র দেশগুলো আর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি সমর্থন করছে না।
চীন-রাশিয়া অক্ষ: বেইজিং ও মস্কোর সমর্থন তেহরানকে এমন এক শক্তিশালী অবস্থানে বসিয়েছে, যেখানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আর আগের মতো কার্যকর হচ্ছে না।
আইআরজিসি’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছেন যেখানে তাকে দুটি চরমপন্থার মধ্য থেকে একটি বেছে নিতে হবে:
অসম্ভব সামরিক অভিযান: ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি বড় মাপের যুদ্ধ শুরু করা, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী হতে পারে এবং বিশ্ব ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি করবে।
অপ্রীতিকর চুক্তি: ইরানের দাবি মেনে নিয়ে একটি নতুন চুক্তিতে আসা, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির জন্য হবে চরম অবমাননাকর।
নাদিন ইব্রাহিমের প্রতিবেদনের বরাতে ইরানি গণমাধ্যমগুলো বলছে, আইআরজিসি বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ এখন এতটাই সরু হয়ে এসেছে যে, যেকোনো ভুল পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইরানের এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে তাদের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তি এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ।
২০২৬ সালের মে মাসে দাঁড়িয়ে এটি স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ হামলার হুমকির মুখেও ইরান যেভাবে পাল্টা আল্টিমেটাম দিচ্ছে, তা বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার ও জাহাজ চলাচলে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি এই সংকটের সামরিক সমাধান খোঁজে, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে ধসিয়ে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র ও গবেষণা সূত্র (Reference List):
সূত্র: সিএনএন (CNN) - নাদিন ইব্রাহিমের বিশেষ প্রতিবেদন।
বিবৃতি: আইআরজিসি গোয়েন্দা শাখার অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল।
বিশ্লেষণ: আল-মনিটর ও ফরেন অ্যাফেয়ার্স - ‘The Shrinking Options for US in Iran’।
নিবন্ধ: তেহরান টাইমস - ‘Washington in a Tight Corner’, মে ২০২৬।
তথ্য: আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) - হরমুজ প্রণালি ও তেলের বাজার অস্থিরতা রিপোর্ট।
বিশেষ বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |